Shaanxi, China
sazib.online@gmail.com

চাউল চোর, সমাজসেবক ও ভাইরাসের ইতিকথা

sheikh mujibur rahman

বাস্তবতা, আপন-পর, বন্ধু-শ্ত্রু এই শব্দ গুলো নির্বাচনের জন্য জীবনের প্রতিটি অধ্যায় গুলো নাকি মানুষের উত্তম বন্ধু। আমাদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা আমাদের যা শিক্ষা দেই, তা দুনিয়ার কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সেই শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নই। একইভাবে আপনি যাকে সমাজসেবক মনে করছেন, যাকে আপনার প্রতিনিধি অথবা আপনার আইকন দাবি করছেন, তাদের মুখোশের আড়ালের চেহারা বা চরিত্রটি উপলব্ধি ঠিক তখন করতে পারবেন, যখন আপনি আপনার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় গুলো খুব যত্ন সহকারে অনুধাবন করতে পারবেন।

‘ওমুক নেতার চরিত্র ফুলের মত পবিত্র’ বা ‘ওমুক ভাইয়ের সরকার এই মূহুর্তে দরকার’ অথবা ‘ওমুক ভাইয়ের দুই নয়ন আমাদের উন্নয়ন’ এই বাঙ্গালি প্রবাদ গুলো কতটুকু সত্য তার কিছুটা ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, কখন আমাদের দেশে সেই করোনা ভাইরাসটি আসবে। অবশেষে সকল আশা-প্রত্যাশার দ্বার পূরণ করতে সমস্ত বিশ্ব কাঁপিয়ে রক্তে কেনা ভূমিতে যখন আগমন ঘটল, তখন আমরা সেই ভাইরাসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রতিটি জেলাতে সফলভাবে প্রবেশ করাতে শতভাগ সফল বা সক্ষম হয়েছি।

আমি কেন ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে আমন্ত্রণ’ শব্দটির ব্যবহার করেছি তা কিছুদূর আমার আর্টিকেলে যাওয়ার পরই বুঝতে পারবেন। এই ভাইরাসটি যখন কয়েকহাজার কিলোমিটার দূরের একটি শহরকে যখন ছিন্নবিচ্ছিন্ন করছিল, তখন আমাদের অবহেলা গুলো রাষ্ট্রকে রঙ্গিন চাদরে মুড়িয়ে রেখেছিল অথবা রাষ্ট্রের চোখে রঙ্গিন চশমা পড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

একবারে প্রথমদিকে উহানের ছাত্রছাত্রীদের যখন দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের একটা অনিশ্চিত পরিবেশের কোয়ারান্টিনে রাখা হয়েছিল। তখন কিছুটা ভয়াবহ আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তেমন কোনো প্রভাব জাতীয় জীবনে পড়ে নাই। এরপর আমরা ভেবেছিলাম এই ভাইরাস তেমন কিছু না বা এই ভাইরাস বাংলাদেশে আসবে না। তারপর ধীরে ধীরে আমরা আমাদের রাষ্ট্রকে আমাদের মত চালাতে শুরু করলাম, আমরা জাতীয় কনসার্ট করলাম, জাতীয় পার্টি করলাম, জাতীয় আনন্দ-ফূর্তি শেষেও আমাদের যখন ঘুম ভাঙ্গল না। ঘুমের ভিতরেই আমরা যখন ইতালি-স্পেনের লাশবাহি গাড়ির বহর দেখলাম, তারপরেও আমাদের ঘুম ভাঙ্গল না।

আর আমাদের ঘুমকে আরো শক্তিশালি করতে ডাঃ জাকিরদের মত বিভিন্ন ডাক্তাররা যখন এই ভাইরাসকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ফতুয়া দিতে শুরু করল, তখন আমরা আমাদের ঘুমের মাত্রা আরো বাড়িয়েছিলাম। আমরা ফেইসবুকে এই ভাইরাস নিয়ে পর্যাপ্ত ট্রল করেছিলাম, পর্যাপ্ত গায়েবি ফতুয়া দিয়েছিলাম, আমরা জাতিগতভাবে ক্রিটিসাইজ করেছিলাম, এমনকি আমরা রাতের আধারে এই ভাইরাসের ভেক্সসিনের উৎপাদনও করেছিলাম। সর্বশেষে আমরা সফলভাবে ওই যে ওমুক নেতাদের উন্নয়নের ধাপ্পাবাজির ফতুয়ায় টেলিভিশন গুলো রঙ্গিন হতেও দেখেছিলাম।

এরমাঝে দ্বিতীয় দফায় যখন বিভিন্ন প্রাশ্চাত্যের দেশ ও আরব দেশ থেকে আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধারা যখন দেশে আশা শুরু করল, তখন আমাদের পর্যাপ্ত সিদ্ধান্তহীনতা ও পর্যাপ্ত অব্যবস্থাপনার অভাবে সেই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় কোয়ারান্টিনে রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ব্যর্থতার পর আমরা তাদের হাতে একটা প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিলাম, বাড়িতে গিয়ে নিজ দায়িত্বে কোয়ারান্টিনে থাকবেন। রাষ্ট্রের এই যুক্তিটা আমার কাছে পাগলকে রকেট সাইন্স শিখানোর মত ব্যাপার মনে হয়েছে কারন আমরা সবাই জানি এত বছর পর বিদেশ থেকে কোনো মায়ের সন্তান বাড়িতে ফিরলে ১৪ দিন সেই মা তার সন্তানের কাছে যাবে না এইটা অসম্ভব ব্যাপার। আর সেই মা অথবা তার স্ত্রী-সন্তানরা কাছে যাওয়া মানে এই ভাইরাসের স্প্রিড হওয়া। তবে বিদেশফেরত সব মানুষের মাঝে যে এই ভাইরাস আছে সেটা যেমন অযৌক্তিক, ঠিক একইভাবে এই ভাইরাস যে কারো মাঝে নেই সেইটা বলাও অযৌক্তিক।

আমাদেরকে অফিশিয়ালি ধরে নিতে হবে, যেহেতু এই ভাইরাসের জন্মস্থান বাংলাদেশ নই অতএব কোনো না কোনো ভাবে এই ভাইরাস মানুষের মাধ্যম হয়ে আমাদের দেশে এসেছে। তারপর একে একে আক্রান্ত হচ্ছে। এই অবস্থা দেখেও আমরা যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না, তখন এই ভাইরাস আমাদের দেশে মহামারীর মত রুপ নিতে শুরু করেছে। তারপর আমাদের ফ্লোরা ম্যাম একের পর এক অদৃশ্য তথ্যের ভিত্তিতে জাতিকে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের তথ্য দিতে শুরু করল কিন্তু বাস্তবে এই ভাইরাস মাপার সাধারণ যে কীট রয়েছে, সেগুলোও নাকি আমাদের হাসপাতাল গুলোতে নেই। অথচ আমাদের স্যাটেলাইট চলে গেছে আকাশে, পদ্মার উপর দিয়ে চলে গেছে পদ্মা সেতু আর লস এঞ্জেলেসের মত সিটি থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৩০০ টাকার সামান্য কীট নেই ডাক্তারদের কাছে ভাবা যায় এইগুলা।

এরপর ডাঃ জাকিরদের ফতুয়ায় যখন এই ভাইরাসের মৃত্যু না হয়ে চারপাশে ছড়াতে শুরু করল, তখন আমরা বাধ্য হয়ে আমাদের অফিস-আদালত, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও শিল্প-কারখানা গুলো বন্ধ করতে বাধ্য হলাম। এরপর যখন পুলিশ-প্রশাসন এই জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হল, তখন আমাদের আস্থা ও ভালবাসার প্রতিক সামরিকবাহিনীকে নামাতে বাধ্য হয়েছে সরকার। কিন্তু যেই জাতিরে ব্রিটিশরা ১৯০ বছরেও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় নাই, সেই জাতিরে এত অল্প সময়ে নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও সম্ভব না। এরপর ডাঃ জাকিরদের ফতুয়ার বিপরীতে গিয়ে আমাদের সেনাবাহিনীর ভাইয়েরা সারাদেশে একযোগে বিভিন্ন মাধ্যমে এই ভাইরাসের ভয়াবহতা পুরো জাতির সামনে তুলে ধরলে বাঙ্গালি কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসে।

বর্তমানে আমাদের দেশের আর্থিক সমস্ত খাত বন্ধ, এমতাবস্থায় রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুদানের জন্য সরকার কর্তৃক বিভিন্ন বিল পাশ করা হয়েছে। আর এই অনুদান যখন দলীয় নেতাদের মাধ্যমে গৃহহীন ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করার টেন্ডার দেওয়া হয়, তখন আমাদের নেতা ও ভাইদের ফুলের মত চরিত্র হঠাৎ করে কিভাবে যেন অপবিত্র হতে শুরু করল। প্রতিটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে চাউল চোর নামে আমাদের সেই পবিত্র চরিত্রের অধিকারি নেতাদের অপবিত্র চরিত্র গুলো ভাইরাল হতে শুরু করল।

আবার এইদিকে ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতাল গুলোতে রোগীরা গেলে তাদের সাথে বিভিন্ন দূর্ব্যবহার ও চিকিৎসার অভাবে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে পরিবর্তন করাতে করাতে যখন জীবিত থাকালীনই ওই মানুষ গুলো মারা যায়, তখন রাষ্ট্রের স্যাটেলাইটও হয়তো অট্টহাসিতে মেতে উঠে যদিও আমরা স্যাটেলাইটের হাসি বুঝতে পারি না।

আমাদের ভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য যখন আকিজ গ্রুপ অথবা বসুন্ধরা গ্রুপের হাসপাতালের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়, তখনও কি আপনি নিজেকে গর্বিত একজন নাগরিক মনে করেন। আপনার কি কখনও মনে হয় না আমার ট্যাক্সের টাকায় আমি চিকিৎসা চাই, কারো ভিক্ষার ভিত্তিতে নির্মিত হাসপাতালে আমার চিকিৎসা হবে কি হবে না তার উপর নির্ভর করে বাঁচতে চাই না।

এরপর আসুন আমাদের সমাজসেবক ও প্রিন্সদের নিয়ে কিছু তথ্য জানার চেষ্টা করি। এই মহামারীতে আমরা হাতেগণা কিছু ধনী ও মধ্যম শ্রেনীর মানুষদের অনুদান দেখেছি গরিবদের জন্য যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আমরা যদি দেশের শীর্ষ স্থানীয় ধনীদের কথা বলি সেই সংখ্যাটা নেহায়তই শূন্য।

আমরা বাংলাদেশের প্রথম ধনী মূসা বিন শমসের অর্থাৎ প্রিন্স মূসা সাহেবের কথা বলতে পারি, যার মোট অর্থের পরিমান ১২ বিলিয়ন ডলার কিন্তু এই মহামারীতে বাংলাদেশে তার কন্ট্রিবিউশন কতটা চোখে পড়ার মত ছিল? এরপর উনার ছেলে ববি হাজ্জাজ সাহেব তার রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক স্লোগাণের ভিতরে স্বপ্নের দেশ গঠনের কিছু অনুচ্ছেদ আছে তবে বাস্তবিক অর্থে সেই স্বপ্নের দেশের ফুটপাতে পড়ে থাকা মানুষগুলিকে নিয়ে তার বর্তমান স্বপ্নগুলো চোখে পড়ার মত ছিল কি?

তারপর শেয়ারবাজার ধ্বংসের হলনায়ক দরবেশ বাবা তিনিও একজন বিলিনিয়ার, এই মহামারীতে তার কন্ট্রিবিউশন কি ছিল? পদ্মাসেতুর দূর্নীতির নাম আসলে সবার নাম যার আগে আসে তিনি হচ্ছেন আমাদের আবুল সাহেব, তিনিও বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ধনী তার কন্ট্রিবিউশন কি ছিল? এইভাবে আমি শতশত মানুষের নাম বলতে পারব যাদের মাঝে অনেকে নিজেদের সমাজসেবক দাবি করেন আবার অনেকে দানবীর মনে করেন কিন্তু বাস্তবিক অর্থে তাদের ভূমিকা হতাশাজনক।

আপনারা অনেকেই জানেন চীনে যখন এই ভাইরাস প্রথম ধরা পড়ল তখন আলিবাবা গ্রুপের মালিক জ্যাক মা ১ বিলিয়ন ইউয়ান অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা অনুদান করেছিলেন চিকিৎসাখাতে। এছাড়াও উনার কোম্পানি থেকে চাইনিজ সরকারকে বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে গেছেন, এমনকি তিনি দক্ষিন এশিয়ার ভারত ছাড়া অনেকগুলো দেশে চিকিৎসা সরঞ্জামের সহায়তা দিয়েছেন। শুধু তিনি না অনেক দেশের অনেক ধনী ব্যক্তিরা এই মহামারীর সময় তার সরকারের পাশে এগিয়ে এসেছেন।

পাকিস্তানের আফ্রিদি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তার অধীনস্থ ব্যক্তিদের সহায়তা দিয়ে আসছেন আর তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমান মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডলার। যেখানে আমাদের দেশে পাতি নেতাদের বাড়িতে নাকি কোটি কোটি টাকা পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেই সমস্ত দানবীররা এই মহামারীতে গরীবদের পাশে এগিয়ে আসছে না কেন? সেই সমস্ত সমাজসেবকরা গরীবদের ত্রানগুলো এইভাবে লুটপাট করছে কেন?

বরং জনগণের পাশে এগিয়ে না এসে মহান এক নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর সাহেবের কাছে ত্রাণ চাওয়ায় তিনি তার এলাকার এক লোককে বললেন, ‘হাওরে গিয়ে ডুব দে, তোর বোনরে বিয়া করব নাকি আমি!’ উনার এই ধরণের অডিওবার্তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠতে লাগল। আর উনার রাজনৈতিক চরিত্র হচ্ছে তিনি পৃথিবীতে এমন এক মানব যিনি ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে নৌকার রাজনীতি করেন।

যাইহোক, হযরত উমর (রাঃ) এর একটি বিখ্যাত বাণী সেই সমস্ত নেতা অথবা চোরদের উদ্দেশ্যে আবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তিনি বলেছিলেন- ‘রাস্তা উচু নিচু হওয়ার কারনে যদি রাজ্যের কোথাও একটি প্রানীও হোঁচট খেয়ে পা ভেঙ্গে ফেলে তবুও আমি উমর আল্লাহর কাছ থেকে জবাবদিহী থেকে রেহাই পাবো না।’ তিনি আরো বলেছিলেন ‘দজলা, ফোরাতের তীরে যদি একটি কুকুরও মারা যায়, তাহলে তার দায় ভার আমি এড়াতে পারবো না।’

মনে রাখবেন আপনিও কিন্তু সেই উমরের উত্তরাধিকারী। যদি উমরের জবাবদিহিতা করতে হয়, তাহলে আপনাকেও যে একদিন জবাবদিহিতা করতে হবে তা সুনিশ্চিত ও চিরসত্য। আর যদি এই থিওরিতে আপনি বিশ্বাসী হয়ে থাকেন, তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তরগুলো আজরাইলের সাথে মুলাকাত হওয়ার আগেই মিলিয়ে নিয়েন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ফুটপাতে পড়ে থাকা মানুষগুলোর হাহাকার ও চিৎকারের শব্দ এবং নেতাদের লাগামহীন চুরি আমাদের কিন্তু ১৯৭৪ সালের সেই ভয়াবহ দূর্ভিক্ষের কথা স্মরণ করিয়ে দেই, যেখানে একদিকে প্রায়ই ১৫ লক্ষের মত মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল আর অন্যদিকে নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছিল।

পরিশেষে একটা কথা বলে শেষ করবার চাই- “মাননীয় স্পিকার আমরা স্যাটেলাইট অথবা ডিজিটাল বাংলাদেশ চাই না, আমরা দুইবেলা ভাত খাইবার চাই, আমরা চিকিৎসাবিহীন অপমৃত্যুর হাত থেকে বাঁচবার চাই” খোদা হাফেজ।

©️ MD Sazibur Rahman Sajib | 10.4.2020 | China 🇨🇳

Tags: ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *